“আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না বা আমি কিছু পারবো না।”- খুব ছোট বয়সেই আমাদের মাঝে এরকমনানান ধরনের হতাশার বসবাস। এই ধরনের কিছু হতাশা আসে আশেপাশের মানুষের নানান কটূক্তিথেকে। আবার আশেপাশে বন্ধু–বান্ধবদের খুব অল্প বয়সেই নানারকম সাফল্য দেখে।
Pediatrics নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে ২০০৫ থেকে ২০১৪পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মদের মাঝে হতাশার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৭৫ শতাংশথেকে ১১.৫৫ শতাংশে। বিষয়টি খুব ভয়ংকর শোনালেও এটা সত্য যে, খুব ছোট ব্যাপারেই আমরাআজকাল হতাশ হয়ে পড়ছি। তোমরা জেনে অবাক হবে, আমাদের আশেপাশে এরকম অনেকসফল ব্যক্তিত্ব আছেন যারা ৩০ বছর বয়সে তাদের সফল ব্যবসা শুরু করেছেন।
আর তাই হতাশ হবার আগে ভাববে, তুমি জানো না কালকে তোমার জন্য কী অপেক্ষা করছে। অর্থাৎপ্রতিটি দিনই কিন্তু নানান রকম প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করা যেতে পারে। হয়তো রাতারাতি সেইপ্রত্যাশাগুলো সফলতার মুখ দেখবে না, কিন্তু তুমি ভেবো না যে তুমি পিছিয়ে পড়ছো। কারণ ইতিহাসসাক্ষ্য দিচ্ছে অসংখ্য সফল ব্যক্তিত্বের যারা কিনা ৩০ বছর বয়সের পরে তাদের সফল ব্যবসা শুরুকরেছেন। এমনকি, আজ তাঁরা সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছেন। প্রতিবার হতাশ হবার আগে, প্রতিবার তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা- এরকম ভাবার আগে ভেবে নেবে ভবিষ্যতে তোমারজন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে। সে ব্যাপারে তুমি হয়তো অবগত নও, আর তাই না জেনেপরিকল্পনা নিজেকে ব্যর্থ ভাববে না।
হতে পারে তোমার পাশে প্রিয় বন্ধুটি নানান ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেইসফলতাগুলো তোমার হতাশার কারণ হতে পারে। আর তাই যখনই হতাশ হয়ে পড়বে, মনে রাখবেসফলতার জন্য কোন বয়স নয় বরং তোমার নিজস্ব মেধাই হবে তোমার মূল হাতিয়ার। জেনে নিতেপারো ইতিহাসে সফল ৫ জন ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যাঁরা কিনা ৩০ বছর বয়সের পরে নিজেদের প্রমাণকরতে পেরেছেন। তারা ভাবতে পারতেন, তাদের হাতে আর সময় নেই, অথবা তাদের দিয়ে কিছু হবেনা। কিন্তু না, হতাশাকে তাঁরা গুরুত্ব দেন নি। বরং ভেবেছেন, হতাশ হওয়ার সময় নেই, সফলতাকেআনা যাবে হাতের মুঠোয় যেকোনো বয়সে।
ইংরেজিতে একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে
‘Your biggest competition is yourself, not your acquaintances’
Tim Westergren
Pandora-র প্রতিষ্ঠাতা হলেন Tim Westergren। যখন তাঁর বয়স ৩৫, তখন তিনি Pandora ব্যবসাশুরু করেন। তার আগে তিনি কাজ করতেন পার্ট টাইম মিউজিক কম্পোজার হিসেবে, শিশুপালনকারী হিসেবে। এমনকি এক সময় তিনি ছিলেন মাদকাসক্ত। ১৯৯৯ সালের দিকে তিনি বিভিন্নসিনেমার জন্য গান কম্পোজ করা শুরু করলেন। এমনকি এমন একটি নতুন ভাবনাকে সামনে নিয়েআসলেন, যা অবাক করে দিয়েছিল অনেককেই। পরিচালকদের ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করে তাদেরজন্য তিনি গান কম্পোজ করা শুরু করলেন।
কিন্তু এই নতুন পেশাটি তাকে খুব বেশি আর্থিকভাবে সহায়তা করছিলো না। এরপর তিনি নতুন একটিচিন্তা নিয়ে সবার সামনে এলেন। আর তা হলো Pandora, The Music
Genome Project। এইপ্রজেক্টটি সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত প্রিয় একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নানান ধরনের মিউজিকেরসম্ভার রয়েছে এই প্রজেক্টে। ২০১০ সালে Tim Westergren, Time magazine-এর ১০০ জনপ্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের একজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
Milton Hershey
Hershey’s এর নামটি আমাদের কমবেশি সকলেরই জানা রয়েছে। যতবারই Hershey’s এরসিগনেচার চকলেট খাচ্ছি, ততবারই কিন্তু আমরা Milton Hershey-র সাথে পরিচিত হচ্ছি।
Hershey সফলতার মুখ দেখছিলেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি তাঁর চকলেট কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন।Hershey তাঁর চকলেট কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন যখন তার বয়স ৩৭ বছর। ১৩ বছর বয়সে স্কুলছেড়ে দেন, এরপর চকোলেট বানানোর ক্ষেত্রে প্রশংসা শুনেছেন সবার কাছে। এরপর তিনি টাকা ঋণকরে একটি চকলেটের দোকান দেন। কিন্তু পাঁচ বছর কাজ করার পর সেই কাজে তিনি সফলতারমুখ দেখেননি।
প্রায় এক যুগ লেগেছে তাঁর বিশাল কিছু অর্জনের জন্য
এরপর ২৬ বছর বয়সে তিনি ল্যাংকেস্টার ক্যারামেল কোম্পানি চালু করেন। এরপর ১৯৯৩ সালেযখন Hershey-র বয়স ৩৭ বছর, তখন তিনি চিন্তা করেন Hershey’s এর সেই বিখ্যাত চকলেটগুলোবানানোর। আর এভাবেই চকলেটের জন্য বিখ্যাত Hershey’s কোম্পানির জন্ম।
Gordon Moore
Gordon Moore বিখ্যাত তাঁর ‘Moore’s Law’-র জন্য। এছাড়া Moore-র বয়স যখন ৩৮, তখন Intel-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর চলার পথ শুরু করেন। ২৭ বছর বয়সে তিনি আরও সাতজন প্রতিভাবানব্যক্তিত্ব নিয়ে তৈরি করেন Fairchild
semiconductor। প্রায় এক যুগ নানান হতাশার পর পরই তাঁরনতুন বিজনেস শুরু করেন তাঁর পার্টনার Bob Noyce-এর সাথে। যা আজ আমাদের সামনে Intel নামে পরিচিত এবং বিখ্যাত।
Jan Koum
সফল উদ্যক্তাদের মাঝে Jan Kaum-এর নাম অনেক বিখ্যাত। Jan Koum-এর জন্ম ইউক্রেনে এবং১৬ বছর বয়সে তিনি তাঁর মায়ের সাথে আমেরিকা আসেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি কোডিং শেখেনএবং ডিগ্রী ছাড়াই তাঁকে কলেজ থেকে বের হয়ে যেতে হয়।
এরপর তিনি Yahoo-র সাথে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক যুগ লেগেছে তাঁর বিশাল কিছু অর্জনেরজন্য। ৩২ বছর বয়সে তিনি Whats’app চালু করেন। এরপর নানারকম বাঁধা-বিপত্তির সম্মুখীন তাঁকেহতে হয়েছে। এমন একটি সময়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যখন ভেবেছিলেন তাঁর ব্যবসাটি তিনি বন্ধকরে দেবেন। কিন্তু সৌভাগ্যজনকভাবে ব্যবসাটি তিনি বন্ধ করেননি। এবং ৩৭ বছর বয়সে তিনিফেইসবুকের কাছে $১৯ বিলিয়নে What’s app বিক্রি করে দেন।
Jack Ma
এই নামটি আমাদের সকলের কাছেই বেশ পরিচিত। বিখ্যাত Alibaba-র প্রতিষ্ঠাতা আমরা সকলেইকম বেশি জানি, আর্থিকভাবে Jack Ma-র পরিবার স্বচ্ছল ছিলেন না। তিনি ভেবেছিলেন দারিদ্র্য থেকেবের হয়ে আসার একটিই মাধ্যম হতে পারে। আর তা হল শিক্ষা। আর তাই কলেজে পরীক্ষা দিয়েদুইবার ফেইল করলেও তৃতীয়বার ঠিকই সুযোগ পান। এরপর অনেক ব্যর্থতার পরও Jack Ma মাত্র১২ ডলারের বিনিময়ে চায়নায় ইংরেজি শেখাতেন। ৩১ বছর বয়সে আমেরিকা ভ্রমণের পর তিনিঅনুধাবন করলেন চায়নায় ইন্টারনেট ব্যবসার বেশ বড় সুযোগ রয়েছে।
এরপর ৩২ বছর বয়সে দুটি উদ্যোগে ব্যর্থ হয়ে ৩৫ বছর বয়সে বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলেবিনিয়োগের ব্যবস্থা করেন তাঁর বিখ্যাত অনলাইন ব্যবসার জন্য। পরবর্তীতে যা আমাদের কাছেAlibaba নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৭ সালে Jack Ma-র আয় ৪৬.৬ বিলিয়ন ডলার। ভাবতেপারো, ১২ ডলার থেকে জীবন তার উর্পাজনকে কই নিয়ে গিয়েছে?
আর তাই সফলতা আসতে পারে জীবনে যেকোন সময়, যেকোন বয়সে। হতাশ না হয়ে মনোবল ধরেরেখে যদি পথ চলতে পারো ইতিহাস হয়তো একদিন তোমার কথাও জানাবে আমাদের এইভাবেই।


0 মন্তব্যসমূহ