নেলসন ম্যান্ডেলা: মহানুভবতা দিয়ে দেশ বদলেছেন যিনি


দক্ষিণ আফ্রিকার একজন কিংবদন্তীর নাম শোনেনি- পৃথিবীতে এমন মানুষের দেখা পাওয়া ভার। অনেকে তাকে চেনে মাদিবা হিসেবে, অনেকের কাছে তিনি নিপীড়িতদের মুক্তির দূত। শত বর্ণবাদ দূর করে এই মানুষটি এগিয়ে চলেছেন মুক্তির পথে, হয়েছেন একটি দেশের জাতির পিতা। শুধু তাই নয়, পুরো বিশ্বে অনুপ্রেরণার আরেক নাম তিনি। নাম তাঁর নেলসন ম্যান্ডেলা
যদি প্রশ্ন করা হয়, ত্যাগ তিতিক্ষার চরমতম প্রমাণ দিয়ে কে নিজের আদর্শকে বাস্তবায়ন করেছেন? উত্তর আসবে, ম্যান্ডেলা। কিছুদিন আগে প্রয়াত কিংবদন্তীতুল্য এই মানুষটি পুরো বিশ্বের কাছে পরিচিত তাঁর সংগ্রামের জন্যে, আর তাঁর ক্ষমাশীলতার জন্যে। তাঁর গল্প শুনে আসি তাহলে!

একজন বিপ্লবীর উত্থান:

তরুণ ম্যান্ডেলার মনে সবসময় বিরাজ করতো একটি স্বপ্ন, বর্ণবাদহীন, শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ আফ্রিকার। সে লক্ষ্যে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। সুষ্ঠু আর সুন্দর এক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন ছিল তাঁর মনে। বর্ণ যাই হোক, সবার অধিকার সমান- এই লক্ষ্যে লড়াইটা তিনি শুরু করেছিলেন তখন থেকেই। জনপ্রিয়তার শুরুটা সেখানেই।
পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা যখন সম-অধিকারের জন্যে গনগনে কড়াই হয়ে রয়েছে, সেসময়ে ম্যান্ডেলাই বলতে গেলে বিপ্লবের মধ্যমণি।

কারারুদ্ধ:

ম্যান্ডেলার এই হঠাৎ উত্থান শাসকদের মোটেও পছন্দ হয় নি। জনতার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে তারা ক্রমশ নিজের শত্রু ভাবতে শুরু করছিল। আর শত্রুর শেষ রাখতে নেই, তাই হত্যাচেষ্টাও হয় তাঁর উপরে। যদিও মানুষের ভালোবাসাই বারবার বাঁচিয়ে দেয় তাঁকে।
কিন্তু একটা সময় সরকার তাঁকে ধরে ফেলে। ম্যান্ডেলার বহু বছরের জেল হয়। তৎকালীন সরকার প্রধান F.W. De klerk-এর দেয়া কারাবন্দীত্ব মেনে নিতে হয় মাদিবাকে।

জেলজীবন:

কারাগারের জীবনটা খুব সুখের ছিল না ম্যান্ডেলার জন্যে। অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন, নিজের প্রিয় দেশটার দুরবস্থা মেনে নিতে বড় বেশি কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। পরিবারকে রেখে থাকাটা কষ্টকর, দেশের মানুষগুলোর দুঃখে নিজেও দুঃখিত হতেন তিনি। কিন্তু আগুনের দিন শেষ হচ্ছিল না।

মুক্তি:

অবশেষে মুক্তির দিন ঘনিয়ে এলো। তুমুল বিপ্লবের মুখে নেলসন ম্যান্ডেলা মুক্তি পেলেন টানা ২৭ বছর কারাবন্দী থাকার পর। তারপরের গল্পটা বিজয়ের। যে ম্যান্ডেলাকে দুই যুগেরও বেশি জেলে বন্দী থাকতে হয়েছে, সেই মাদিবা ধীরে ধীরে দেশের প্রধান হয়ে উঠলেন!
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা, আর শপথ নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সকল সমস্যার সমাধান তিনি করবেনই, শান্তিপূর্ণ ভাবে!

কেমন ক্ষমা?

সাধারণ কোন নেতা নির্দোষ হয়েও ২৭ বছর জেল খেটে আসলে তাঁকে যে কারাবন্দী করেছে তার সঙ্গ ত্যাগ করে, প্রতিশোধ নেয় বা নিদেনপক্ষে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ম্যান্ডেলা যে অস্বাভাবিক রকম উদার একজন নেতা!
দেশটি থেকে বর্ণবাদ দূর করলেন কোনরকম রক্তক্ষয় ছাড়াই
তিনি দূরদর্শীতা দেখালেন, তাই প্রতিশোধ, রাগ কিছুই দেখালেন না। উল্টো নিজে প্রেসিডেন্ট হয়ে ২৭ বছর আগে তাঁকে কারাবন্দী করা F.W. De klerk-কে নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট বানালেন গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে। সকল শত্রুকে ক্ষমা করে দিলেন তিনি, এমন মহানুভবতা পৃথিবীর ইতিহাসেবড়ই বিরল।

মাদিবা থেকে পুরো বিশ্বের অনুপ্রেরণা:

ম্যান্ডেলা যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট হন, দক্ষিণ আফ্রিকা তখন তুমুল বিপর্যস্ত একটি দেশ। বর্ণবাদ ছড়িয়ে গেছে সবদিকে, প্রকাশ্যে খুন-ধর্ষণ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সবাই ধরেই নিয়েছিল, একটা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ কিংবা আর্মিদের ক্ষমতা নেয়া ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে কখনোই দক্ষিণ আফ্রিকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখানে ম্যান্ডেলা আবারও বিস্ময় দেখালেন।
দেশটি থেকে বর্ণবাদ দূর করলেন কোনরকম রক্তক্ষয় ছাড়াই। শান্তির বাণী ছড়িয়ে ধ্বংসপ্রায় একটা দেশকে উন্নত করার দিকে নিয়ে গেলেন মাদিবা। আর প্রমাণ করলেনPositive Energy থাকলে সবই সম্ভব
বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়, মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়, এটি অনেক সময় কদর্য একটা আকারও নিয়ে নেয়। অথচ ম্যান্ডেলা তাকে ২৭ বছর জেলে বন্দী করা মানুষটার সাথে মিলে দেশ চালিয়েছেন! এখান থেকে তোমাদের অণুপ্রেরণা নেয়া উচিত, যে ম্যান্ডেলা পারলে তুমিও পারবে।
জীবনে সুখী থাকার খুব দরকারি একটা টিপস হলো Negative Energy-গুলোকে নিজের ভেতর থেকে বের করে দেয়া। জীবন থেকে সবরকম নেতিবাচক চিন্তা চলে গেলেই সুখী, সুন্দর জীবন হবে সবারই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ